সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা।। তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারের সন্ত্রাসী মহড়ার দেয়ার পর ভয়ে দোকানপাট তিন ঘন্টা বন্ধ রেখেছিল বাজারের সকল ব্যবসায়ীরা। ঘটনার খবর পেয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাজারে এসে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট খুলে দেয়।
আনোয়ারপুর বাজার বণিক সমিতি সুত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সোমবার সকালে বাজারে এসে মহড়া দেয়ায় প্রায় ৩ ঘন্টা আনোয়রপুর বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখেছিল ব্যবসায়ীরা। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক মানববন্ধ কর্মসুচি পালন করেছে ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বণিক সমিতির সভাপতি ফয়সাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গণী, সহ সভাপতি আব্দুল বারিক, তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগ নেতা সাহাঙ্গীর আলম, ব্যবসায়ী আবুল কাশেম, নিজাম শাহ, আব্দুস সালাম,রুহুল আমিন,রয়েল, মাহমুদ আলী, বাজারের পাহারাদার নুরুল হক প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল মেম্বর ও তার আত্নীয় স্বজনসহ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসায়ীদের চাদাঁ দাবীসহ নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতন করে আসছে। আমরা এ সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় সোমবার সকালে বাবুল মেম্বারের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রায় শতাধিক লোকজন নিয়ে মিছিল সহকারে অস্ত্রশস্ত্রসহ বাজারে এসে মহড়া দিলে আমরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখি।
আনোয়ারপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমি ঘটনাটি তাহিরপুর থানায় অবগত করলে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এসে বাজারের দোকানপাট খুলে দেন।
অভিযুক্ত স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল মেম্বার জানান, আমার কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ নেই। আমি সন্ত্রাসী ও চাদাঁবাজির সাথে জড়িতও না। বাজারে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কোন মহড়াও দেইনি।আমাকে সামাজিকভাবে হেয়পতিপন্ন করার জন্য আমার প্রতিপক্ষ আমার বিরোদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। বরং গতরাতে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী বালিজুরী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে সে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনার প্রতিবাদে আমরা একটি প্রতিবাদ নিয়ে বাজারে যাই। কোন সন্ত্রাসী মহড়া দেইনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, এরকম ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ারপুর বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।